সাকিবের কথাতেই চলছেন বাংলাদেশ কোচ

0
126

রাসেল ডমিঙ্গো বাংলাদেশ দলে যোগ দেওয়ার ১০ দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছেন সাকিবরা। খেলোয়াড়দের ভালো করে চেনা-জানা এমনকি কন্ডিশনও ভালো করে বুঝে ওঠার সময় পাননি বাংলাদেশের নতুন কোচ।

খেলোয়াড়দের ভালো করে চেনা হয়নি, কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা নেই, ডমিঙ্গো কীভাবে পরিকল্পনা করবেন, কীভাবেই-বা প্রতিপক্ষকে হারানোর ছক কষবেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের পরিকল্পনা-কৌশলের ভার তিনি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের হাতেই অনেকটা ছেড়ে দিয়েছিলেন। টেস্টের একাদশ হয়েছে অনেকটা সাকিবের চাওয়া অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং অর্ডারে বড় ধরনের রদবদলেও অধিনায়কের মতামত প্রাধান্য পেয়েছে। ডমিঙ্গো আপাতত ‘পর্যবেক্ষকে’র ভূমিকায়।

কেন সবকিছু অধিনায়কের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, আজ সংবাদ সম্মেলনে কোচ সেটির যুক্তি দিলেন এভাবে, ‘অধিনায়ক আমার সঙ্গে কথা বলেছিল (টেস্টের আগে)। কিছু পরামর্শ ছিল তার। এই মুহূর্তে আমার চেয়ে খেলোয়াড়দের সে ভালো করে চেনে। এ কারণেই অধিনায়ক তার মতামত জানিয়েছিল। সংগত কারণেই তাকে শতভাগ সমর্থন দিয়েছি।’

টি-টোয়েন্টি সিরিজের বাংলাদেশ স্কোয়াডও পুরোপুরি চেনা নয় ডমিঙ্গোর। টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাওয়া তরুণ দুই সদস্য মিশু (ইয়াসিন আরাফাত) ও আফিফ হোসেনের সঙ্গে তিনি পরিচিত হয়েছেন আজ বিকেলে, অনুশীলনের ১০ মিনিট আগে।

খেলোয়াড়েরাই যদি অপরিচিত হন কোচের কাছে, কীভাবে ছক কষবেন তাঁদের নিয়ে? তাঁকে তো অধিনায়ক কিংবা সিনিয়র খেলোয়াড়দের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে। এই সিরিজটা তাই ভীষণ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে ডমিঙ্গোর কাছে, ‘১০ মিনিট আগে পরিচয় হওয়া একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে কীভাবে কাজ করতে হবে, সেটি বোঝা সত্যি কঠিন। এই মুহূর্তে এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগোচ্ছি। তবে গত তিন সপ্তাহ আমার দারুণ কেটেছে। দুর্দান্ত সব খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভালো সময় কেটেছে। তারা অনেক পরিশ্রম করছে। সব সময়ই উন্নতি করার চেষ্টা করছে। টেস্টে তাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। এই ছেলেদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমার ভালো লাগছে। দলে কিছু তরুণ ক্রিকেটার আছে। কিছু দুর্দান্ত সিনিয়র ক্রিকেটার আছে। তাদের যদি ভালোভাবে সামলানো যায়, ধারাবাহিক কাজ করা যায়, পারফরম্যান্সে উন্নতি না আসার কোনো কারণ নেই।’

টেস্টে ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ—ডমিঙ্গো খোলাখুলিই জানালেন এই সংস্করণটা বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের কাছে খুব একটা ‘প্রিয়’ নয়। প্রিয় নয় টি-টোয়েন্টি সংস্করণও। ‘অপ্রিয়’ সংস্করণে ‘প্রিয়’তে রূপান্তর করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ, ‘এটা ইন্টারেস্টিং। সাকিবের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। জিজ্ঞেস করেছিলাম—কোন সংস্করণটা বাংলাদেশের প্রিয়? ও বলল, ৫০ ওভারের ক্রিকেট। জানতে চাইলাম, কেন? বলল, এই সংস্করণ খেলতে খেলতেই বেড়ে ওঠে এখানকার ক্রিকেটাররা। স্কুল-ক্লাব ক্রিকেটে এই সংস্করণটাই বেশি খেলা হয়। টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করতে আরও অনেক কাজ করতে হবে। আগামী দুই মাসে এই দুই সংস্করণে আমাদের বেশি মনোযোগী হতে হবে। ভাগ্য ভালো সামনে খুব একটা ওয়ানডে ক্রিকেট নেই। অনেক টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি আছে সামনে। এই দুই সংস্করণে আমরা আরও উন্নতি করতে পারব আশা করি।’

এখনো যেহেতু বাংলাদেশের ক্রিকেট ভালোভাবে চেনা-জানা হয়নি ডমিঙ্গোর, আপাতত অধিনায়ক সাকিবের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে তাঁকে। এভাবে চললে যে একটা সময় বিসিবির সুদৃষ্টি তাঁর ওপর থেকে সরে যাবে, সেটি কি অজানা ডমিঙ্গোর? বিসিবি সব সময়ই চায় দলের প্রধান কোচ হবেন ‘কড়া হেডমাস্টার’। এই মুহূর্তে শুধু খেলোয়াড়দের চেনাজানাই নয়, ডমিঙ্গোর চ্যালেঞ্জ এটাও—দ্রুতই তাঁকে হয়ে উঠতে হবে কড়া হেডমাস্টার, যেটা বিসিবি পেয়েছিল চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের মধ্যে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে