শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্তি পেলেন রতন, জেনেনিন কত বছর পর

0
57

দীর্ঘ ২৫ বছর পর শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্তি পেলেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার রতন মিয়া। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচারিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁকে শিকলবন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হাসিবুস সাত্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিন ও পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাহাব উদ্দিন অ্যাম্বুলেন্সসহ সাটিয়াদী গ্রামে রতন মিয়ার বাড়ি যান। সেখানে একটি ঘরের বারান্দায় অন্ধকার কক্ষে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা অবস্থা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।রতন মিয়াকে নিয়ে গতকাল প্রথম আলোর প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গতকালই তাঁকে ইউএনওর উদ্যোগে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে তিনি শিকলবন্দী রতন মিয়ার অবস্থার কথা জানতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে রতন মিয়াকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় রতনের চিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আশা করা হচ্ছে তাঁকে সুস্থ করে তোলা যাবে।

রতন মিয়ার বয়স এখন ৫৫ বছর। বন্দী জীবন শুরু হয় ২৭ বছর বয়স থেকে। ২৮ বছর আগে মাথায় আঘাত পেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যান। দুর্ঘটনার তিন বছর পর থেকে তাঁকে শিকলবন্দী করা হয়।কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাটিয়াদী গ্রামে রতন মিয়ার বাড়ি। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ২৫ বছর ধরে বসতবাড়ির বারান্দার একটি অন্ধকার কক্ষে শিকলবন্দী অবস্থায় ছিলেন তিনি। ওই কক্ষেই তাঁর খাওয়াদাওয়া, প্রাকৃতিক কাজ, ঘুমানোসহ যাবতীয় সবকিছুর ব্যবস্থা ছিল।

রতন মিয়ার বড় ভাই আঙুর মিয়া জানান, রতন মিয়া অবিবাহিত। আর দশজনের মতোই সুস্থ ও সবল ছিলেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি সংসারের কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে করতেন। প্রায় ২৮ বছর আগে একদিন গরু বাঁধার খুঁটিতে মাথার এক পাশে প্রচণ্ড আঘাত পান। প্রচুর রক্তপাত হয়। স্থানীয়ভাবে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছুদিন পর রতন অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেন। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে কয়েক দফা চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পরে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।আঙুর মিয়া আরও জানান, বাড়িতে আনার পর রতনের অস্বাভাবিক আচরণ বাড়তে থাকে। বাড়ির বাইরে গেলে লোকজনের ওপর চড়াও হতেন এবং লোকজনকে মারতে শুরু করতেন। তাই বাধ্য হয়ে তাঁকে বাড়িতে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে। তবে তাঁর সেবাযত্ন ও খাওয়াদাওয়ায় যেন কোনো কমতি না হয়, সে ব্যাপারে তাঁরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে