বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক কি মোসাদ্দেকই হচ্ছেন?

0
191

সাকিবের পরিবর্তে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক মোসাদ্দেক! সাকিব অধিনায়কত্ব উপভোগ করছেন না। চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের সাথে টেস্ট চলাকালীন চার দিন কথা বলতে এসে দুদিন প্রেসের সামনে বলেছেন, অধিনায়কত্ব তিনি উপভোগ করছেন না। ভাবটা এমন, দল পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলেই খুশি হবেন।

সাকিবের মত ‘সব্যসাচি’ ক্রিকেটার ‘চ্যাম্পিয়ন’ পারফরমার ও দলের ‘নিউক্লিয়াস’ যখন বারবার বলেন, অধিনায়কত্ব তিনি উপভোগ করছেন না। তখন বুঝতে হবে কিছু ‘কিন্তু’ আছে। হয়তো সব কিছু তার মনমতো হচ্ছেনা। তিনি যেমন চাচ্ছেন, তা পাচ্ছেন না। ক্রিকেটাররা তার ডিমান্ড পূরণ করতে ব্যর্থ। পারফরমেন্সের গ্রাফ নীচে নেমে গেছে। সেই তলানিতে থাকা পারফরমেন্স তার ভাল লাগছেনা। নিজের পারফরমেন্সটাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই হয়তো সাকিব ভাবছেন, এর চেয়ে দায়িত্ব ছেড়ে ফ্রি হয়ে খেলি। তাতে নিজের স্বাভাবিক পারফরমেন্স হবে।

কাজেই বোর্ডে অধিনায়কত্ব বদলের প্রশ্ন উঠে এসেছে বৈকি! এমন পরিস্থিতিতে বিসিবির অভ্যন্তরে কথা হচ্ছে, সত্যিই কি সাকিব ক্যাপ্টেন্সি উপভোগ করেন না? তবে কি তার জায়গায় অন্য কাউকে দল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হবে সময়োচিত কাজ?

বিসিবির ভেতরেও কথা হচ্ছে। এইতো কদিন আগে বিসিবির অন্যতম শীর্ষ পরিচালক, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং প্রায় একযুগ ধরে জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকা খালেদ মাহমুদ সুজনও মিডিয়ার সামনে বলেছেন, সাকিব বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ও সফলতম ক্রিকেটার। অধিনায়ক হিসেবেও সাকিব দারুণ। তার ক্রিকেট মেধা, জ্ঞান ও ২২ গজে দল পরিচালনা অসাধারণ। এবং নিঃসন্দেহে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবার সব মেধা ও গুণ আছে সাকিবের। কিন্তু তিনি যখন এমন কথা বলেন। তখন তার বদলে অন্য কাউকে বিশেষ করে তরুণদের কাউকে দল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া যেতেই পারে।প্রশ্ন উঠতে পারে, মাশরাফি ছাড়া পঞ্চ পান্ডবের আরও তিনজন আছেন। তাদের কারো নাম না বলে সুজন তরুণদের কথা বললেন কেন? কারণ ধরেই নেয়া হচ্ছে মুশফিককুর রহিম আর অধিনায়কত্ব নিতে রাজি হবেন না। বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরে মাশরাফি শেষ মুহূর্তে আহত হবার পর অধিনায়কত্ব অফার করা হলে মুশফিক নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।তামিম দায়িত্ব পেয়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। অধিনায়ক হিসেবে তাকে আড়ষ্ট মনে হয়েছে। তাকে ব্যাটিংয়ের সময় যতটা আত্মবিশ্বাসী আর নিজ সামর্থ্যে আস্থাবান মনে হয়, অধিনায়ক হিসেবে ততটাই মানসিকভাবে দুর্বল এবং রীতিমত অস্থির মনে হয়েছে। আর মাহমুদউল্লাহ নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। তার দলে থাকাই কঠিন। কাজেই এ মুহূর্তে ‘পঞ্চ পান্ডবের’ আর কারো পক্ষে সাকিবের বদলে অধিনায়ক হওয়া কঠিন। ওদিকে তরুণদের মধ্যেও এমন কেউ নেই, যিনি প্রতিনিয়ত পারফরম করছেন এবং দল পরিচালনা করতে পারেন।তবে যেহেতু এবারের প্রিমিয়ার লিগে মাশরাফি, সাব্বির, সৌম্য, মিঠুন, মিরাজসহ অনেক তারার দল আবাহনীর ক্যাপ্টেন্সি করেছেন; তাই মোসাদ্দেকের কথাই ভাবা হচ্ছে। আহামরি না হলেও মোটামুটি তার পারফরমেন্সও মন্দ না।

তাই মোসাদ্দেকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনি দায়িত্ব নিতে চান কিনা? আজ মঙ্গলবার পড়ন্ত বিকেলে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের কনফারেন্স হলে এ প্রশ্নর মুখোমুখি হয়ে মোসাদ্দেক বলেন, ‘আসলে বর্তমান অবস্থায় এই নিয়ে চিন্তা করছি না। এটা নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট ভাববে। দলে অবদান রাখার কথা যদি বলেন, এখন সবাই পারফর্ম করছে এবং চেষ্টা করছি অবদান রাখার। প্রতিদিন একজন প্লেয়ার ভালো খেলবে না। সুযোগ আসলে আমার জায়গা থেকে আমি সব সময় চেষ্টা করব দলের জন্য অবদান রাখার, এখন এই দিকেই নজর দিচ্ছি।’

আপনাকে অধিনায়কত্ব দিলে করবেন? মোসাদ্দেকের জবাব, ‘এখন পর্যন্ত আমার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি এ নিয়ে। যদি এমন কিছু আসে তাহলে আমার সঙ্গে কথা বলবে এবং আলোচনা সাপেক্ষে তখন কথা বলব অবশ্যই।’অধিনায়ক হলে কিভাবে উন্নতি করতেন? মোসাদ্দেক বলেন, ‘অধিনায়ক হব কী হব না সেটা পরের ব্যাপার। এখন যারা আছেন তারাও এই নিয়ে চিন্তা করছেন আমাদের এই জায়গায় ঘাটতি আছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অল্প বলে বেশি রান করা ব্যাটসম্যান আমাদের দরকার। এমন ব্যাটসম্যান যতদিন পর্যন্ত না আসছে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আজ চাইলে কালই টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ বানাতে পারব না। আমি মনে করি এখন যারা আছে তারা চেষ্টা করছে এবং এরাই ভালো কিছু করতে পারবে ইনশাআল্লাহ্।’দলের অবস্থান কেমন? তা জানাতে গিয়ে মোসাদ্দেক বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমি বলেছিলাম আমাদের একটা ম্যাচ জেতা খুব জরুরী। প্রথম ম্যাচ জিতেছি এবং পরের ম্যাচ হেরেছি। তাই পরবর্তী ম্যাচটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জিততেই হবে এবং আমরা জেতার জন্য খেলবো। আগ্রাসী ক্রিকেটটাই খেলবো।’মোসাদ্দেক মানছেন খারাপ খেললে সমালোচনা হবে। তার ভাষায়, ‘ভালো খেললে পরিবেশ অন্যরকম থাকে। যখন হারি বা খারাপ খেলতে থাকি তখন সমালোচনা হয়। আমরা চেষ্টা করি যতটা এসব এড়িয়ে যাওয়া যায়। নিজের ওপর ফোকাস করা যায় কিভাবে। সেই সময় বেশি ক্রিকেট নিয়েই চিন্তা করি। কীভাবে এখান থেকে বের হওয়া যায় হওয়া যায় ভাবি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে একটু দূরে থাকার চেষ্টা করি।’

অধিনায়ক হলে দলকে কি বার্তা দিতেন? মোসাদ্দেকের জবাব, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে সবসময় ওদের স্পিনার নিয়ে বেশি কথা হয়। আমরা ম্যাচ হারছি ২০-২৫ রানে। ওদের যেই স্পিনার আছে তাদের বিপক্ষে যদি হিসেব করে খেলতে পারতাম, তাহলে ঠিক ছিল। আমার মনেই হয় সব কিছুই ঠিক আছে। টি-টোয়েন্টিতে ১৬০ রান হবে এবং এটা তাড়া করতে হবে এটাই স্বাভাবিক। সেখানে আমরা ১৪৫-১৫০ রানে থেমে যাচ্ছি। যেই জায়গায় আমরা ভুল করছি, সেগুলো কমিয়ে আনলে ম্যাচ জেতার শতাংশটা আমাদের জন্য বেড়ে যাবে।’

দলে আসা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান কাম লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে নিয়ে মোসাদ্দেক বলেন, ‘যারা দলে আসছে তারা সবাই পারফর্ম করেই এসেছে। এ দল বলেন, এইচপি দল বলেন, এই জায়গা থেকে পারফর্ম করে এসেছে। এছাড়া আমাদের একটা প্লেয়ার এসব জায়গা ছাড়া তো পারফর্ম করার জায়গা নাই। তারা এসব জায়গায় ভালো করেছে বলেই ওদের দলে নেয়া হয়েছে। দলে লেগ স্পিনার নেই, যে কারণে বিপ্লবকে আনা হয়েছে। সে নেটেও ভালো বোলিং করেছে দেখলাম। আর সাইফ তো লাস্ট কয়েকটা ম্যাচেও ভালো খেলেছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে