ডিফেন্ডার হয়েও ২ গোল করে জেতানো যায়

0
171

‘আক্রমণভাগ আপনাকে ম্যাচ জেতাতে পারে কিন্তু শিরোপা জেতাবে রক্ষণভাগ’—কথাটা স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের। গোল ঠেকিয়ে তারকা হওয়া তুলনামূলক কষ্টসাধ্য হলেও, দলের সাফল্যে রক্ষভাগের গুরুত্ব কত বেশি, তা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচের কথাতেই বোঝা যায়।

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জিতে শিরোপা জেতার সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে শিরোপা জয়ের জন্য দলের মনোবল তো চাঙ্গা রাখা যায়। ভুটানের বিপক্ষে জোড়ো গোল করে বাংলাদেশকে জিতিয়ে আজ মাঠ ছেড়েছেন ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান। তিনি মূলত প্রথাগত ডিফেন্ডার । আরও স্পষ্ট করে বললে একজন সেন্টারব্যাক। সাধারণত গোল ঠেকানোই তাঁর কাজ। কিন্তু গোল ঠেকিয়ে ওপরে উঠে গিয়ে গোল করতে পারাই তো তারকা ডিফেন্ডারদের কাজ।

আজ শুরুতে ভুটানের বিপক্ষে খাবি খাচ্ছিল বাংলাদেশ। গোল করে সেই অসহায়ত্ব থেকে বাংলাদেশকে বের করে এনেছেন ইয়াসিনই। ২২ মিনিটে রায়হান হাসানের লম্বা থ্রো-ইন থেকেই হেডে গোলের খাতা খুলেছেন। সঙ্গে দলকে করেছেন চাপ মুক্তি। দ্বিতীয় গোলটি দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে। বদলি আরিফুর রহমানের ক্রস থেকে আলতো হেড করে ব্যক্তিগত ও বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোল।

জাতীয় দলের জার্সিতে এবারই প্রথম গোল নয় ২০১৪ সালে গোয়ায় ভারতের বিপক্ষে জাতীয় দলে অভিষিক্ত হওয়া ইয়াসিনের। এর আগে ২০১৫ বঙ্গবন্ধু গোল্ডাকাপের ফাইনালে মালয়েশিয়া অনূর্ধ্ব- ২৩ দলের বিপক্ষে গোল করে বাংলাদেশকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন। যদিও সেই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। এ ছাড়া ২০১৬ সালের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপেও যশোরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের ম্যাচে একটি গোল ছিল তাঁর। এর ৩ বছর পর আবার গোল করে আলোচনায় ইয়াসিন। মাঝে চোট আর নিষেধাজ্ঞায় পড়ে জাতীয় দল থেকে ছিটকেই পড়েছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে কম্বোডিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ দিয়ে ফেরা। এর পর থেকে বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডের ‘অটোমেটিক চয়েস’ এই সেন্টারব্যাক।

লম্বা বিরতিতে গোল পেয়ে ম্যাচ শেষে খুবই উচ্ছ্বসিত ইয়াসিন ,‌ ‘ অনেক দিন পরে গোল পাওয়ায় ভালো লাগছে। ইনজুরির জন্য অনেক দিন মাঠের বাইরে ছিলাম। আজকের গোল দুইটি ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।’

ইয়াসিনের মূল ক্যারিশমাটা দেখা যায় রক্ষণভাগে। অনেক উঁচুতে ওঠে হেড করতে জুড়ি নেই তাঁর। ভুটানিজ স্ট্রাইকার চেনচো গেইলশেনের পা থেকে কতবার বল কেড়ে নিয়েছেন, ‘ডার্টি ওয়ার্কে’র আড়ালে সে সৌন্দর্যগুলোও চোখ এড়ায় কীভাবে! দুই পায়ে সব নিখুঁত ট্যাকল, সঙ্গে দুর্দান্ত কভারিং। আর দুই প্রান্ত থেকে ভয় ধরানো সব ক্রস যখন ভেসে এসেছে বক্সে, তখন চোখে পড়েছে তাঁর দূরদর্শিতা। সঙ্গে লড়াকু মনোভাব এবং প্রচণ্ড সাহস তো ছিলই। ডিফেন্ডারদের খেলার মধ্যেও যে একটু সৌন্দর্য থাকে তা ইয়াসিনের প্রতিটা ট্যাকল ও ইন্টারসেপশনে ফুটে উঠেছে। এভাবেই আজ পুরো নব্বই মিনিট নির্বিষ রাখলেন ভুটানিজ ফরোয়ার্ডদের। সঙ্গে দুটি গোল করে রাতটা নিজের করে নিলেন ইয়াসিন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে