জানতেন একদিন সব হবে : রানু মণ্ডল

0
122

লাতিন বাগধারায় বলে, ভেনি ভিদি ভেসি। অর্থাৎ এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। রানু মণ্ডলের জন্য ওই ‘দেখলেন’-এর জায়গায় হবে ‘গাইলেন’। রানু মণ্ডল এলেন, গাইলেন আর জয় করলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলকাতা রেলওয়ে স্টেশনে তাঁর গাওয়া ‘এক প্যায়ার কা নাগমা হ্যায়’ গানটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল। আর ইন্টারনেট দুনিয়ার এখন মানুষ রানু মণ্ডলের নাম বা ছবি দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে। যাকে বলে ‘ইন্টারনেট সেনসেশন’।গত কয়েক দিনে উপমহাদেশের বিনোদন সাংবাদিকতায় রানু মণ্ডলকে নিয়ে যত মাতামাতি হয়েছে, অন্য কারও সঙ্গে তার তুলনা চলে না। রানু মণ্ডলের প্রথম প্লে ব্যাক ‘তেরি মেরি কাহানি’। ‘হ্যাপি হার্ডি অ্যান্ড হির’ ছবির জন্য তৈরি হয়েছে গানটি। এই ছবির আরও একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। প্রথম গান মুক্তির অনুষ্ঠানে এসে রানু মণ্ডল বললেন, হিমেশ রেশমিয়ার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি ধন্য। আর তাঁর বিশ্বাস ছিল, একদিন তাঁর গান মানুষ শুনবে।অনুষ্ঠানে বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সুরকার হিমেশ রেশমিয়ার সঙ্গে রানু মণ্ডলের কিছু মুহূর্ত। ছবি: রানু মণ্ডলের ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে নেওয়াজীবনে অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন রানু মণ্ডল। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রানু মণ্ডল নাকি কখনো আস্থা হারাননি নিজের কণ্ঠের ওপর। তিনি জানতেন, তিনি একদিন গাইবেন। আর জয় করবেন। গান মুক্তির সংবাদ সম্মেলনে রানু মণ্ডল বলেন, ‘সবার ভালোবাসায় আমি ধন্য। তাঁদের জন্যই জীবন আমাকে এত বড় সুযোগ দিল। হিমেশ রেশমিয়া এত বড় সুযোগ দিলেন কেবল আমার কণ্ঠের ওপর ভরসা করে। আমি কৃতজ্ঞ।’নিজের কণ্ঠের ওপর বরাবরই ভরসা ছিল রানু মণ্ডলের। ৫৮ বছর বয়সে এসে ঠিকই তাঁর সেই বিশ্বাস সত্যি হয়েছে। তাই তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন সেই মানুষদের, যাঁদের জন্য তাঁর স্বপ্ন মূর্ত হয়ে ধরা দিয়েছে হাতের মুঠোয়। বলেছেন, ‘মানুষ যদি আমাকে ভালো না বাসত, তাহলে এটা সম্ভব হতো না। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ ছিল। সে জন্যই গাইতে পেরেছি।’

রানু মণ্ডল আরও বলেন, ‘যখন আমি গান গাইতাম, তখন বুঝিনি এভাবে সব ঘটবে। তবে সব সময় নিজের কণ্ঠের ওপর আমার বিশ্বাস ছিল। জানতাম, আমি ভালো গাই। আর একদিন আমারও দিন আসবে। সেদিন সব হবে। তাই কখনো আশা হারাইনি। আগেও অবশ্য স্টেজে গেয়েছি। কিন্তু সেই স্টেজ অনেক ছোট। সে কতকাল আগের কথা!’

অনুষ্ঠানে সবাই দেখেছেন এ সময়ের ‘ইন্টারনেট সেনসেশন’ রানু মণ্ডলকে। ছবি: রানু মণ্ডলের ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে নেওয়াআরও যোগ করেন, ‘আমার গাইতে খুব ভালো লাগে। গান গাইলে আমার আর কিছু মনে থাকে না। মনে হয়, আমি সবচেয়ে সুখী।’

রানু মণ্ডল নিজের জীবনের আইডল কে, তাও জানিয়ে দেন এই অনুষ্ঠানে। সহজেই অনুমেয়, তিনি লতা মঙ্গেশকর। তবে ছোটবেলা থেকেই তিনি মোহাম্মদ রাফি, মুকেশ আর কিশোর কুমারের গান শুনে বড় হয়েছেন। তারপর কিশোর কুমার আর সনু নিগমের গানও শুনতেন। জানালেন, তাঁদের গান শুনে শুনেই গান শিখেছেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে